খেলাফুটবল

মেসি বার্সার সেই যে মিতালী

ছোলটবেলায় সারমর্ম ব্যাখায় পড়তে হয়েছিলো- ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা,সব শিশুরই অন্তরে’।

বিশ্বের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যত্বে লুকিয়ে থাকে বাবা মায়ের খ্যাতি আর সম্মান। আমাদের চারিপাশে অনেক শিশু হারিয়ে যায় অনাদরে,অবহেলায়। সব বাবা মায়ের পক্ষে সন্তানের বরণ,পোষণ বহন করা সম্ভব হয়না। যদি পরিবারটি দরিদ্র হয় আর পরিবারের কোন সন্তান বড় কোন অসুখে ভোগে।
ঠিক তেমনি একটি বড় অসুখে ভোগে ছিলেন আর্জেন্টিনার রোজারিও-তে জন্মগ্রহণ করা একটি শিশু। ইস্পাতের কোম্পানীতে কাজ করা একজন বাবার পক্ষে এত ব্যয়বহুল ঔষধের খরচ বহন করা কোনভাবেই সম্ভব ছিলো না।

আপনাদের বলছি গ্রোথ হরমোন সমস্যায় ভোগা একটি শিশুর কথা।

প্রতিভা প্রতিটি মানুষের থাকে। পর্যাপ্ত গাইড লাইন না পেলে অনেক প্রতিভা হারিয়ে যায় অতল গহব্বরে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে একটি প্রতিভা হারিয়ে যায়নি কিংবা হারিয়ে যেতে দেননি ততকালীন বার্সা পরিচালক। তিনি কিশোর মেসির ফুটবল খেলা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে-হাতের কাছে থাকা একটি টিস্যু পেপারে মেসির চুক্তি সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। সেই থেকে পথচলা শুরু।

কেউ কেউ বিরহ অনলে পুড়ে,বেদনার সাথে করে মিতালী। মেসির ক্ষেত্রে তা সম্পুর্ণ বিপরীত। মেসি বাঁ পায়ের যাদুতে বিশ্ব ফুটবল প্রেমীকে মুগ্ধ করেই গড়ে তোলেন বার্সা আর মেসি মিতালী। যা বিদ্যমান ছিলো একুশ বছর।

কৈশোরের মধুমাখা প্রেম দিয়ে যে মিতালী গড়ে উঠেছিলো তাতে কে কাকে পরাজিত করেছে সেই প্রশ্ন ফুটবল প্রেমীর নিকট থেকেই গেলো তবে কোন ফুটবল বোদ্ধা যদি বার্সার ইতিহাস ঘেঁটে থাকেন নিশ্চয়ই একটি নামই সবার উপরে উঠে আসবে আর সেই নামটি লিওনেল মেসি। একটি বাস্তব সত্য অস্বীকার করার ক্ষমতা কোন ফুটবল প্রেমীর নেই আর সেটি হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীতে এসে আজকের বার্সেলোনার আকাশচুম্বী যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার পিছনে দুটি ফুটবলারের অবদান অনস্বীকার্য। প্রথমজন ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদিনহো, অপরজন লিওনেল মেসি।

মেসি একা শুধু জনপ্রিয়তার স্বর্ণশিখরে উঠেননি,সঙ্গী করেছিলেন নিজেকে দ্বিতীয় জীবন প্রদানকারী উচিলায় অবতীর্ণ হওয়া প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনাকে।

বার্সার সাথে মেসির মিতালী নাকি মেসির সাথে বার্সার সেই প্রশ্ন পাঠকের সামনে? তবে একটি কথা বলাই যায় আগামী ফুটবল বিশ্ব এমন মিতালী হয়ত দেখবে না। ছয়টি ব্যালন ডিঅর যার জলন্ত প্রমাণ। গত একুশ বছরে বার্সেলোনা যে কটি চ্যাম্পিয়নস লীগ,লা-লীগা,কোপা দেলরে জিতেছে। আগামী একুশ বছরে আরেকজন মেসি তৈরী করে এমন ইতিহাস রচনা করা সত্যিই খুব কষ্টকর হয়ে উঠবে কিংবা অসম্ভব প্রায়।

মেসি বার্সার এই যুগলবন্দী মিতালী যতোদিন ফুটবল খেলা চলবে ততোদিন হয়তো বারংবার আলোচলায় উঠে আসবে।

________মোতালেব হোসেন লিমন।

Back to top button